Skip to main content

মেরিকুরি

মেরিকুরি ছিলেন ফরাসি বিজ্ঞানী। তার ডাক নাম মানিয়া। তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষনার জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। পৃথিবীতে তিনি ই একমাত্র মহিলা যিনি দুবার  দুটি বিষয়ে( পদার্থ ও রসায়ন)        নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।
মেরিকুরি


তিনি ১৮৬৭ সালের ৭ই নভেম্বর পোল্যান্ডের ওয়ারসাতে জন্মগ্রহন করেন।তার পুরো নাম মেরি স্কলোডসকা কুরি। তার  বাবা ব্লাদিয়াভ শক্লোদোভস্কি ছিলেন নামকরা কলেজের পদার্থের অধ্যাপক।
তার মা ছিলেন নামকরা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। তার বাবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রতি শনিবার সন্ধ্যায় বিজ্ঞান ও সাহিত্যের আসর বসানেন।   একসময় তার পরিবারে খুব আর্থিক সংকট দেখা দিলে তিনি এক রুশ আইনজীবির বাসায় গভর্নেসের চাকরী নেন। তিন বছর তাকে চাকুরী করতে হয়।
তার দুবোনের মধ্যে শর্ত ছিল একজনের পড়াশুনা শেষ করে অপরজনের পড়ায় খরচ যোগানো।
তখন তার বড় বোন ব্রোনিয়া ডাক্তারি পাস করে। শর্তানুযায়ি , মেরি তখন তার বোনের সহযোগিতায় বিজ্ঞানে উচ্চ শিক্ষার জন্য অস্ট্রিয়ার অধিনে ক্রাকো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান  | সেখানে তিনি বিজ্ঞান ক্লাসে অংশগ্রহন করতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সচিব তাকে অসম্মতি জানান ,বলেন বিজ্ঞান মেয়েদের জন্য নয়। পরে তিনি ডাক্তারি পড়তে প্যারিসের সোরবোরন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান।
এসময় তার পরিচয় ঘটে ফরাসি বিজ্ঞানী পিয়ারে কুরির সাথে। এবং তাকে বিয়েও করেন।
তারা যৌথভাবে গবেষনাও করেন। ১৮৯৮ সালে এই দম্পতি পিচব্লেন্ড থেকে প্রথমে পলোনিয়াম ও রেডিয়াম নামে তেজক্রিয় পদার্থ আবিস্কার করেন। এগুলো ইউরেনিয়াম থেকে দশ লক্ষগুন বেশী শক্তিশালী। এই দম্পতি প্রমান করলেন, কোন কোন পরমানু ক্রমাগত ভেঙ্গে গিয়ে
বিকিরন করে রপারে।  এই বিকিরন অন্য পদার্থও ভেদ করতে পারে।বিরল ধাতু ইউরেনিয়াম লবন থেকে পলোনিয়ামও রেডিয়াম নামে দুটি মৌল আবিস্কার করেন। ১৯০৩ সালে তাদের এই অসাধারন আবিষ্কারের জন্য যৌথভাবে মেরিকুরি ও পিয়ারে কুরি পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।
১৯১০ সালে মেরিকুরি রেডিয়াম ক্লোরাইডকে তড়িৎ বিশ্লেষন করে বিশুদ্ধ রেডিয়াম নিষ্কাশন করেন।
এটা আবিষ্কারের জন্য মেরি ১৯১১ সালে রসায়নে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।
এছাড়া তিনি ১৫টি স্বর্ণ পদক, ১৯টি ডিগ্রী ও অনেক পুরষ্কার লাভ করেন। ১৯৩৪ সালের ৪ই জুলাই তিনি লিউকেমিয়াতে মারা যান।

Comments

Popular posts from this blog

সক্রেটিস

সক্রেটিস ছিলেন এক জন মহান দার্শনিক ছিলেন। তার জন্ম হয়েছিল খ্রীস্টপূর্ব ৪৬৯ সনে গ্রীসের এথেন্সে। তার দার্শনিক আদর্শ ও মূল্যবোধ দুই হাজারের ও বেশী সময় ধরে পাশ্চাত্য সভ্যতা, দর্শন ও সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করেছে। সক্রেটিসের জীবন ও দর্শন সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়না। তার  জীবন ও দর্শন সম্পর্কে তিনটি উৎস উল্লেখযোগ্য, প্লেটোর ডায়ালোগ, এরিস্টোফেনিসের নাটক ও
জেনোফোনের ডায়ালগ। সক্রেটিস নিজে কিছু লিখেছেন এরকম কোনো প্রমান পাওয়া যায়না।
প্লেটোর বর্ননা থেকে জানা যায় সক্রেটিসের বাবার নাম সফ্রোনিস্কাস,আর তিনি একজন স্হপতি ছিলেন। তার মায়ের নাম ফিনারিটি, তিনি একজন ধাত্রী ছিলেন। তার স্ত্রীর নাম জ্যানথিপ।
তার সংসারে খুব অভাব অনটন। সংসারের অভাব অনটন ভুলতে তিনি বেশীরভাগ সময় দার্শনিক আলোচনায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। সক্রেটিস তার দর্শন প্রচারের জন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেননি। হাটবাজার , রাস্তাঘাট যেকোনো জায়গায় তিনি সব বয়সের মানুষের সাথে বিনামূল্যে দার্শনিক আলোচনা করতেন। সুফিদের মতো অর্থের বিনিময়ে শিক্ষা করা তিনি ঘৃনা করতেন। তিনি বলতেন, আমি জ্ঞানী  নই, জ্ঞানুসারী মাত্র। "একটি জিনিসই আমি শুধু জা…

হেনরি ডুনান্ট

হেনরি ডুনান্ট একজন সুইস সমাজকর্মী ও ব্যবসায়ী ছিলেন।তিনি ৮ই মে, ১৮২৮ সালে জন্মগ্রহন করেন। তিনি ১৮৫৯ সালে ইতালিতে ব্যবসায়িক কাজে যান এবং সেখানে তিনি সালফেরিনো যুদ্ধ পরিদর্শন করেছেন। তিনি সালফেরিনোর যুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে সালফেরিনোর স্মৃতি নামে বই রচনা করেছিলেন। এটি তাকে ১৮৬৩ সালে আন্তজার্তিক রেডক্রস সোসাইটি কমিটি গঠনে অনুপ্রানিত করে।
১৮৬৪ সালে ডুনান্টের ধারনা নিয়ে জেনেভা কনভেনসন গঠিত হয়।১৮৫৯ সালের সালফেরিনো যুদ্ধে প্রায় ৪০০০০ সৈন্য আহত ও মারা যায়,তখন তাদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার কেউ ছিলনা।
হেনরি তখন পাশের গ্রামের পাদরিদের কাছে তাদের সেবা দেওয়ার অনুরোধ জানান।
তার কথায় পাদরিরা তখন গ্রামের লোকজনের কাছে আহত সৈনিকদের সেবার জন্য আবেদন করে, এতে পুরুষরা রাজী না হলেও নারিরা যেতে রাজী হয়েছিল।সোখান থেকে ফেরার পর তিনি মানব কল্যানে কাজ শুরু করেন। ১৯০১ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পান। হেনরি মানব কল্যানে তার সব সম্পত্তি বিলিয়ে দিয়েছিলেন।১৬টি দেশ নিয়ে রেডক্রস প্রথম যাত্রা শুরু করে, এখন এর সদস্য সংখ্যা
১৮৮ | এটি বর্তমানে পৃথিবীর সর্ববৃহত সেচ্ছাসেবী ও মানবতাবাদী প্রতিষ্ঠান।
রেডক্রস সাদাকালো, হিন্দু ম…

মনিপুরী তাতশিল্প

মনিপুরী তাতশিল্প বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্য।  মনিপুরীরা বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে বসবাস করে। আঠারশ শতক থেকে মনিপুরীরা এখানে বসবাস করছে। মনিপুরী নারীদের হাতেবোনা তাতের জন্য অনেক সুখ্যাতি রয়েছে।   শ্রীমন্গল ও মৌলভীবাজার জেলার কমলগন্জের ৬০টি গ্রাম মনিপুরী তাতশিল্পের জন্য বিখ্যাত। মনিপুরী নারীদের তাতশিল্পকে তাদের সমাজে বিয়ের খেত্রে পূর্ব অভিগ্গতা হিসেবে ধরা হয়।    মনিপুরীদের বস্ত্র তৈরীর কল তিন ধরনের যেমন কোমরে বাঁধা তাত,
হ্যান্ডলুম তাত ও থোয়াং।  মনিপুরীরা এই তাতগুলো দিয়ে লেডিস চাদর, মাফলার, তোয়ালে,শাড়ী, গামছা, মশারী, স্কার্ফ,টেবিল ক্লথ ইত্যাদি। নিজেদের প্রয়োজন মিটাতেই মনিপুরী সম্প্রদায়দের মধ্যে তাত শিল্প গড়ে উঠেছিল। এখন বাংগালী সমাজেও ওদের তাত শিল্পের সামগ্রী ব্যাবহৃত ও সৌখীন্য।
মনিপুরীদের তৈরী নকশী ওড়না, নকশী শাড়ী ও ডিজাইনের শীতের চাদর বাংগালী সমাজে খুবই নন্দিত। গ্রীষ্মকালে  মনিপুরীরা তুলার সূতা ব্যাবহার করে।  এবং শীতকালে তারা
উল ও পলেস্টারের সূতা ব্যাবহার করে। বর্তমানে বাজার থেকে তারা সূতি সূতা কিনে।
মনিপুরীরা খুবই আকর্ষনীয় রংয়ের ফানেক তৈরী করে। প্রতদিন পরার জন্য তারা সমতল …